সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে ১৮ হাজার মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ করেছেন মানুষকে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আবার, মানুষই পৃথিবীর সব প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসহায়। কারণ মানুষ বিপদমূহুর্তে অন্য কোনো প্রাণীর সরাসরি উপকার পায়না। মানুষই নিজের মহত্ত্ব দিয়ে নিজের স্বজাতিকে মহিমান্বিত করে তোলে। যদিও এতে তার নিজের মহত্ত্ব একটুও কমে না। আর এই মহত্ত্ব কাজের অন্যতম উপায় রক্তদান করা। রক্তদান এমনই মহৎ কাজ, যার মাধ্যমে নিজের মধ্যে আনন্দ ও শান্তি আসে। রক্ত দিয়ে স্বর্গীয় অনুভূতি লাভ করা যায়। পাশাপাশি অন্য একটি জীবনও বাঁচে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- রক্তদাতারা অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি নিজের শরীরকেও সুস্থ রাখতে পারেন। হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে।
ধরুন, একটি গাভী প্রতিদিন আধা লিটার করে দুধ দেয়। গোয়ালা সাত দিন দুধ দোয়ালো না। সে গরু কি আটদিনের দিন সাড়ে তিন লিটার দুধ দেবে? কখনোই না। আমাদের শরীরে রক্তের উৎপন্ন হওয়া এবং রক্তের কোষ নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও একই রকম। রক্ত দান করলে তা আবার নিজের থেকে পূরণ হয়ে যায়। দান করা রক্ত পূরণ হওয়ার জন্য ভাল ভাল খাবারেরও প্রয়োজন নেই। সাধারণ ডাল-ভাত-রুটি সবজিই যথেষ্ট।
চিকিৎসকরা বলেন, আমাদের শরীরে রক্তের মূল উপাদান লোহিত কোষ সাধারণত ৩-৪ মাস অন্তর অন্তর মারা যায়। আবার নতুন কোষ সৃষ্টি হয়ে সেই ঘাটতি পূরণ হতে বেশি সময় লাগে না। আপনি যে প্লাজমা দান করবেন তা পূরণ হতে সময় লাগে মাত্র ২৪ ঘণ্টা। আর লোহিত কোষ পূরণ হতে সময় লাগে ৪-৬ সপ্তাহ। তাই একজন সুস্থ মানুষ প্রতি ৩/৪ মাস পর পর রক্তদান করতে পারেন।
এবার ভাবুন, পৃথিবীতে এই একটি কাজ আছে যার দ্বারা, একজনের ত্যাগে আরেকজন বাঁচার শক্তি পায়। আপনার এক ব্যাগ রক্ত পারে একটি জীবন বাঁচাতে। একমাত্র রক্তদাতারাই পারেন নিজে সুস্থ থেকে অন্যকে বাঁচাতে। মনে রাখবেন, আপনার দান করা রক্ত শুধু একজন মানুষের প্রাণ রক্ষাই করেনা, একটি পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকেও রক্ষা করে। রক্ত দিন, অপরকে বাঁচান, নিজেও বাঁচুন। রক্তই হোক আমাদের আত্মার বাঁধন।
<>আলো ব্লাড এন্ড সোশ্যাল ফাউন্ডেশন<>
(অনলাইন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন